20.3 C
Düsseldorf

মাথা গোঁজার ঠাঁই এর দাবিতে বেদখল হয়ে গেল প্যারিসের পার্ক

Must read

বাসস্থানের দাবিতে প্রায় ৩০০ অভিবাসী প্যারিসের ১০ নং ডিসট্রিক্টে অবস্থিত ভিলমিন পার্ক দখল করে রেখেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন কালেক্টিভ রিকুইজিশন জানিয়েছে, রাস্তায় থাকা শরণার্থীদের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত তারা পার্ক দখল আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ডিএএল, ইতুপিয়া৫৬ সহ অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি সংগঠনের জোট কালেক্টিভ রিকুইজিশন তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা দখল করে অভিবাসীদের জন্য বাসস্থানের দাবি নিয়ে সফল হয়েছে তারা৷

এর ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রায় ৩০০ অভিবাসী নিয়ে প্যারিসের ১০ নং ডিসট্রিক্টে অবস্থিত ভিলমিন পার্ক দখল করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

অবস্থান নেয়া অভিবাসীদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি বাসস্থানের আবেদন করে অপেক্ষা করছেন৷ আবার অনেকেই আছেন নতুন শরণার্থী, সরকার যাদের দায়িত্ব এখন পর্যন্ত নেয়নি।

কালেক্টিভ রিকুইজিশন প্লাটফর্মের উদ্যোগে প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছে৷ অভিবাসীদের বাসস্থানের দাবিতে এটি তাদের ষষ্ঠ আন্দোলন। রোববার বিকালে প্যারিসের প্রাণকেন্দ্র রিপাবলিক চত্ত্বরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীদের নিয়ে তারা বাসস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে। প্যারিস প্রেফেকচুর কর্তৃপক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা পণ্ড করে দেয়।

ইল দ্য ফ্রঁন্স প্রেফেকচুর কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সমাবেশ অংশ নেয়াদের ৪৭০ জনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

বিভিন্ন সংস্থা ও সাংবাদিকেরা জানিয়েছে সমাবেশটি ব্যাপক সহিংস হয়ে উঠেছিল।তাই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।

ইতুপিয়া৫৬ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান মানজি বলেন, রাষ্ট্রের আরো একটি দুর্বলতা রোববার সন্ধ্যায় স্পষ্ট হলো। ৭০০ এর বেশি অভিবাসীর কোন দায়িত্ব নেয়া হয়নি। এদের অর্ধেক সন্ধ্যায় প্যারিসের উত্তরে তাদের অস্থায়ী আবাসনে ফিরে যায়। ১০০ জন অভিবাসী বিভিন্ন সংস্থার অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে কাটায়৷ আর বাকি ৩০০ জন ভিলমিন পার্ক দখল করে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

আন্দোলনরত ৩০০ অভিবাসীর বেশিরভাগ আফগানিস্তান ও পূর্ব আফ্রিকা থেকে আগত। এদের মধ্যে অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের এপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না। আবার অনেকে ডাবলিন বিধিমালায় আওতায় তাদের আশ্রয় আবেদন জমা করতে পারছেন না।
ইতুপিয়া৫৬ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের নিয়ে সন্তোষজনক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ বছরের জানুয়ারি থেকেই কালেক্টিভ রিকুইজিশন বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা দখল করে এমন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর আগে প্যারিসের ১৬ নাম্বার ডিসট্রিক্ট এর একটি স্কুল, ১২ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টে একটি জিমনেশিয়ামসহ ৬টি ভিন্ন ভিন্ন স্থাপনা তারা দখল করে৷ যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ২১০০ অভিবাসীর দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

- Advertisement -spot_img

More articles

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ আপডেট