14.7 C
Düsseldorf

জার্মানিতে অবৈধ উপায়ে কাজের বিপদ

Must read

জার্মানিতে অভিবাসীদের জন্য কাজ পাওয়াটা কোন কোন ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে৷ অনেকে এজন্য বেছে নেন অবৈধ উপায়৷ কিন্তু যদি ধরা পড়েন তাহলে জেল, জরিমানা বা বিতাড়িত হয়ে এর মূল্য দিতে হতে পারে৷

আশ্রয়প্রার্থীরা জার্মানিতে কোনো কাজ পান না বিষয়টি এমন নয়৷ তবে আশ্রয় আবেদনের জটিল প্রক্রিয়া পেরিয়ে তারপরই কাজের অনুমতি মিলে৷ এজন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন ও প্রক্রিয়ার ধাপগুলো বাজে রকমের কঠিন৷

সেগুলো শেষ করে অনুমতি পেলেও কাজ খুঁজে পেতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানান অনেক আশ্রয়প্রার্থী৷

অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানিও আশ্রয়প্রার্থীদের কাজে নিতে চান না৷ এর বড় কারণ কাজের অনুমতি সংক্রান্ত জার্মান বিধানের জটিলতা৷ আবার এটাও সত্যি যে বিভিন্ন খাতে চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিকের অভাব রয়েছে জার্মানিতে৷ তারপরও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে জার্মান কোম্পানিগুলো শরণার্থীদের কাজ দিতে পারছে না৷
জার্মানিতে কাজ পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি ভাষাগত৷ দেশটির সরকারি সংস্থা জার্মান ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিসহ বিশেষজ্ঞরাও এই কথা বলে থাকেন৷ জার্মান ইনস্টিটিউট ফর লেবার ইকোনমিকস বা আইজেডএ এর জন্য করা একটি জরিপে দেখা গেছে ভাষার দক্ষতা থাকলে জার্মানিতে অভিবাসীদের কাজের সম্ভাবনা বাড়ে৷ অন্যদিকে জার্মান ভাষা জানেন না এমন অভিবাসীরা কাগজপত্রবিহীন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় না এমন কাজ করতে বাধ্য হন৷

গোপন বা অবৈধ কাজ করার ক্ষেত্রে এর বাইরেও একটি কারণ আছে৷ শ্রম আইন নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সেমফ্রা ডেলোভানি-এর মত এমন অনেক কাজ আছে যার জন্য আপনার ভাষার উচ্চ পর্যায়ের দক্ষতা লাগে না৷ তারপরও অনেকে আয়কর ফাঁকি দেয়ার জন্য বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ভোগ করার জন্য অবৈধ পন্থায় কাজ করেন৷ এর বাইরে সুবিধা হল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বদলে হাতে হাতে টাকা পাওয়া৷

ডেলোভানি মনে করেন কেউ অবৈধভাবে কাজ করবে কিনা তা অভিবাসী বা শরণার্থীর রেসিডেন্স স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতির ধরনের উপরও নির্ভর করে৷ যাদের ভবিষ্যতে জার্মানিতে থাকার সম্ভাবনা আছে তারা সাধারণ অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য হলেও বৈধভাবে কাজ করেন ও অবসর তহবিলে টাকা দেন৷ অন্যদিকে যাদের সেই সম্ভাবনা নেই তারা আয়ের প্রতিটি টাকাই নিজের হাতে পেতে চান৷

এমন কাজ যে শুধু অভিবাসীরা করে তা নয়৷ সরকারি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি, বিএএমএফ এর মতে, এমন কোন প্রমাণ নেই যে শুধু আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীরাই অবৈধভাবে কাজ করে৷ হিসাব বলছে লাখো জার্মান, ইউরোপীয় অন্য দেশের কর্মী কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা মানুষেরাও এই উপায় বেছে নেন৷

বিএএমএফ বলছে, প্রতিটি খাতেই অবৈধ কর্মী আছে৷ বিশেষ করে নির্মাণ ও স্থাপনা, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, মাংসশিল্প, পরিবহণ অথবা শিল্পে পরিচ্ছন্নতা খাতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়৷

অবৈধ উপায়ে কাজের অনেক নেতিবাচক দিক আছে৷ জার্মানির ন্যুনতম মজুরি ৯১৯ ইউরো৷ যাদের বৈধ কাগজ নেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা এই মজুরি পান না৷ এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কর্মদাতা কোন মজুরিই পরিশোধ করেন না এমন নজিরও আছে৷ কিন্তু কাজের চুক্তিপত্র না থাকায় এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করতে পারেন না কর্মীরা৷ ‘‘কাজ করেছেন কিন্তু তা প্রমাণ করতে পারছেন না, আমি এমন বহু উদাহরণ পেয়েছি,’’ বলেন আইনজীবী ডেলোভানি৷

অনেক সময় অবৈধ কর্মীদের দিয়ে এমন সব কঠিন ও অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কাজ করানো হয় যেখানে স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রকট বা কারখানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ার শঙ্কা থাকে৷ এসব পরিস্থিতে কর্মস্থলে তারা কোন দুর্ঘটনার শিকার হলে চিকিৎসা ব্যয় নিজেদেরই বহন করতে হয়৷ কারণ বৈধ কাগজ না থাকায় তারা স্বাস্থ্য বীমার আওতায় থাকেন না৷ কোন কোন ক্ষেত্রে তা খুবই ব্যয়বহুল হতে পারে বলে জানান ডেলোভানি৷ আর সে কারণে তিনি বরাবরই অবৈধ কর্মসংস্থানের বিপক্ষে সবাইকে পরামর্শ দেন৷ অবৈধ কাজ আর অবৈধ বসবাস দুটি একসাথ হলে কারো জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিগুন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে৷

জার্মানিতে কেউ অবৈধ উপায়ে কাজ করে কিনা তা খুঁজে বের করতে তৎপর দেশটির কাস্টম পুলিশ ও কর কর্তৃপক্ষ৷ তাদের তদন্তে নিয়োগকারী ও কর্মী দুইজনই বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন৷ যারা নিয়োগ দেন তাদেরকে পাঁচ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে৷ গুরুতর ক্ষেত্রে এমনকি হতে পারেন কারাদণ্ডের মুখোমুখি৷

অন্যদিকে অভিবাসী বা আশ্রয়াপ্রার্থীরা বসবাসের যথাযথ ধরন বা চাকুরির অনুমতি ছাড়া কাজ করলে ফৌজদারি ও দেওয়ানি দুই ধরনের মামলার মুখেই পড়তে পারেন৷ এক্ষেত্রে শুধু জরিমানা দিয়ে তারা ছাড় পেতে পারেন৷ কিন্তু গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ড এমন জার্মানি ছাড়ারও নির্দেশ দেয়া হতে পারে৷ বিশেষ করে কেউ যদি একই অপরাধ একাধিকবার করেন৷

- Advertisement -spot_img

More articles

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে অনুগ্রহ করে আপনার নাম লিখুন

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ আপডেট